উত্তরায় পরিবর্তনের সুর: ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ঢাকা-১৮ আসনটি সবসময়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৫০-এর দশকে এই অঞ্চল যখন গড়ে উঠছিল, তখন থেকেই এ দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ঢাকাকে বেছে নিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই আসনে এখন পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।
১৯৫০ সালের পর থেকে ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সচেতনতা উত্তরার মতো অঞ্চলগুলোকে রাজনীতির অগ্রভাগে নিয়ে আসে। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪-এর ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—উত্তরা ছিল প্রতিটি আন্দোলনের অন্যতম ‘হটস্পট’। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরা থেকেই হাজার হাজার মানুষ পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে গণভবন অভিমুখে রওনা হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটায়। ২০২৫ সালের বর্তমান প্রেক্ষাপটে উত্তরায় এখন নতুন রাজনৈতিক শক্তি এনসিপি’র জনপ্রিয়তা বাড়তে দেখা যাচ্ছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুরে উত্তরার আজমপুর কাঁচাবাজার হাসান মাহমুদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত উত্তরা থানা নির্বাচন কার্যালয় থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির নেতাকর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মো. মান্নান তালুকদার (মাহিন), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম প্রিন্স এবং উত্তরার সাত থানার প্রধান ও যুগ্ম সমন্বয়কারী আমিনী ফেরদৌস, মো. আনিসুর রহমান, ওমর ফারুক স্বপনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে উপস্থিত থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।
নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ১৯৫২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এ দেশের ছাত্র-জনতা বারবার রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে। তারা বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম বীরত্বগাথা রচিত হয়েছে উত্তরা থেকে। ঢাকা-১৮ আসনের জনগণ এবার ব্যালটের মাধ্যমে সেই বিপ্লবের প্রতিফলন ঘটাবে। এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এ অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে লড়াই করবেন।" রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৯৫০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতির যে বিবর্তন, সেখানে তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়ছে। ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর এই অংশগ্রহণ নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে নতুন মাত্রা প্রদান করবে।
বিশ্লেষণ: ১৯৫০-এর দশকে যখন বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলন শুরু হয়, তখন থেকেই ঢাকা ছিল আন্দোলনের মূল কেন্দ্র। ২০২৪-এর বিপ্লব পরবর্তী ২০২৫ সালের এই নির্বাচনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এখানে সনাতনী রাজনৈতিক ধারার বাইরে এনসিপির মতো নতুন ও তরুণ নেতৃত্বের উত্থান ঘটছে। উত্তরার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসনে এনসিপির শক্ত অবস্থান তাদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির এক বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সূত্র: ১. দৈনিক যুগান্তর (জাতীয় রাজনীতি বিভাগ, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫)। ২. বাংলাদেশ প্রতিদিন অনলাইন ডেস্ক। ৩. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |